সোমবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া সংবাদ
  6. আমাদের সম্পর্কে
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-প্রকল্প
  9. একুশে বইমেলা
  10. কৃষি ও প্রকৃতি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খেলাধুলা
  14. গণমাধ্যম
  15. চট্টগ্রাম

কাজীর দেউড়ি ২নং গলি করবস্থান সংস্কারে আর্থিক অনিয়ম! দুদক ছাড়িয়ে অভিযোগ গেলো জেলা পরিষদে।

প্রতিবেদক
admin
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৩ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ

কাজীর দেউড়ি ২নং গলি করবস্থান সংস্কারে আর্থিক অনিয়ম! দুদক ছাড়িয়ে অভিযোগ গেলো জেলা পরিষদে।

 

চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ির ২নং গলির কবরস্থান সংস্কারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই কবরস্থান সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে আসা অনুদানের অর্থের সাথে এলাকাবাসীর কাছ থেকে উত্তোলিত অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম দুদক কার্যালয়ে অভিযোগ জানিয়েছে স্থানীয়রা।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ১৫ নং বাগমনিরাম ওয়ার্ডের কাজীর দেউড়ি ২নং গলি কবরস্থান উন্নয়ন সংস্কারের জন্য সরকারি ভাবে বিদায়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের অধীনে ৩ লক্ষ টাকা করে তিন দফায় ৯ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান আসে। এই কবরস্থান সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য (চট্টগ্রাম-৯) শিক্ষা উপমন্ত্রী বারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরি নওফেলের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা আর্থিক অনুদানও জমা হয় । এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী আর্থিক এবং সংস্কার কাজে প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছে।

 

স্থানীয়রা জানান, এই কাজে শুধু মিস্ত্রী খরচ, লোহা, ৫ ঠেলা গাড়ি বালি ও পিলার ঢালাই কাজে সেন্টারিং এর জন্য কাঠ ছাড়া আর কোন অর্থ ব্যয় হয়নি। এলাকাবাসীর মতে সব ব্যয় সম্পন্ন করার পর আরো অন্তত ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা জমা থাকার কথা৷ অভিযোগ উঠেছে কতিপয় ব্যক্তি কবরস্থান সংস্কার কমিটিতে থাকার কথা বলে সাক্ষর নিয়ে সেই স্বাক্ষর জাল করে কমিটির সকল সদস্যকে না জানিয়ে জেলা পরিষদ থেকে দফায় দফায় অনুদানের অর্থ এনেছে। এছাড়া এলাকার বাইরের অনেক জনের কাছ থেকে ওরা আর্থিক সহযোগিতা নেয়। এই বিষয়টি কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করার কথা বলে আয় ব্যয়ের হিসাব চেয়ে বসেন। আর তখনই বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল। এবার হিসাব দিতে শুরু হয়ে যায় গড়িমসি । বার বার হিসেবে বসার তারিখ দিলেও এক পর্যায়ে তারা এই হিসাব চাওয়ার এখতিয়ার কারো নেই বলে মন্তব্য করেন। উক্ত কবরস্থান সংস্কার কমিটির সদস্য আবদুল জলিল , জাহাঙ্গীর আলম, মাহাবুব চৌধুরী বিরুদ্ধে হিসেব দিতে কাল বিলম্ব করার অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর সম্মিলিত চাপে এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা বৈঠকে বসে হিসেব দেন৷

 

তবে সেই প্রথম বৈঠকেই তাদের হিসেবের খাতায় গরমিল দেখা যায়। উদাহরণ স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের অনুদান আনতে গেলে ১ লাখ টাকার মধ্যে দশ হাজার টাকা, তিন লাখ টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা অফিসিয়াল খরচ দেখিয়ে কেটে নেয়া হয়েছে। কেউ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিলে খাতায় তোলা হয়েছে ৫ হাজার টাকা আর কেউ ২৫ হাজার টাকা অনুদানকে খাতায় তোলা হয়েছে ২৫ বস্তা সিমেন্ট হিসেবে৷ প্রথম বৈঠকের পর উক্ত কবরস্থার সংস্কার কমিটি আরো তিনবার বৈঠকে বসলেও তারা কোনো হিসাব দিতে পারেনি।

 

মহল্লা সর্দার কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদিন টিপু সর্দার জানান, এদেরকে একাধিক হিসাবে বসার জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও তারা তা আমলে নেয়নি। সকলের কাছে জবাবদিহি করার জন্য আমরা কিছু রসিদ বই করি, এই রসিদ বই তাদের কাছে থাকায় তারা এ রসিদ বইয়ের হিসাব দেয়নি। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে কয়েকটি রসিদ বইয়ের অবশিষ্ট অংশের ছবি পেয়েছি। অভিযুক্তরা এক প্রজেক্টে একাধিক বার অনুদান পাওয়ার কারণে, জেলা পরিষদের অনুদানকে সুইস ব্যাংক মনে করে। তাই তারা আরো একটি প্রকল্প দেখিয়ে অনুদানের জন্য আবেদন করেছে।

 

জানা গেছে এই একই কবরস্থানের জন্য সাবেক মেয়র এম মঞ্জুর আলম এর আমলে চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন থেকে ১২ লক্ষ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে৷ অথচ সেই বরাদ্দ কোন কাজ করা হয়নি। আমরা তাই দুদককে পবিত্র কবরস্থান নিয়ে আর্থিক অনিয়মে যুক্তদের শাস্তি কামনা করে চিঠি দিয়েছে এলাকাবাসি৷ এলাকাবাসি বলছে, প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে জাহাঙ্গির আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ - জোকস